যুদ্ধের এলাকা বাড়াচ্ছে মস্কো

Share your love

ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ক্ষেত্র বাড়ানোর কথা জানিয়েছে রাশিয়া। বুধবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এ কথা বলেন।

রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেনে মস্কো যে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ পরিচালনা করছে, তার ভৌগোলিক উদ্দেশ্য পরিবর্তন করা হচ্ছে। মস্কো এখন আর শুধু পূর্ব দনবাস অঞ্চলের মধ্যেই তাদের লক্ষ্য সীমাবদ্ধ রাখছে না, ইউক্রেনের আরও কয়েকটি অঞ্চল অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা করছে। খবর আল-জাজিরার

লাভরভের বরাত দিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আরআইএ নভোস্তি জানিয়েছে, মস্কো এখন ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের খেরসন, জাপোরিঝিয়াসহ আরও কিছু অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্তি করার পরিকল্পনা করছে। লাভরভ বলেছেন, কিয়েভের পশ্চিমা মিত্ররা যদি তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রাখে, তবে মস্কো তাদের লক্ষ্য আরও বিস্তৃত করবে।

রাশিয়া যখন ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল, তখন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখলের কোনো ইচ্ছা তাঁদের নেই। তাঁদের ইউক্রেনের এই বিশেষ সামরিক অভিযান মূলত দেশটিকে নিরস্ত্র ও নাৎসিমুক্ত করা। কিয়েভের পক্ষ থেকে ক্রেমলিনের এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলা হয়, এটা মস্কোর যুদ্ধ শুরুর পটভূমি। শুরুতে কিয়েভ দখলে বড় ধাক্কা খাওয়ার পর গত ২৫ মার্চ প্রথম ধাপের সামরিক অভিযান বন্ধ করার ঘোষণা দেয় মস্কো। এরপর পূর্ব দনবাসকে স্বাধীন করার লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা হয়। এর চার মাস পর লুহানস্ক দখলের দাবি করে মস্কো। দনবাসের গুরুত্বপূর্ণ দুটি অঞ্চলের একটি লুহানস্ক। আরেক অঞ্চল দোনেৎস্ক দখলের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন রুশ সেনারা।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ইউক্রেনে পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলে হামলা জোরদার করেছেন রুশ সেনারা। এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, পশ্চিমারা রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই কেবল মস্কো কৃষ্ণসাগর থেকে ইউক্রেনীয় শস্য রপ্তানির পথ সহজ করবে।
গত মঙ্গলবার রুশ সেনারা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ক্রামাতোরস্ক শহরে হামলা চালিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, রুশ সেনাদের হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। দনবাস এলাকার শহরটিতে একটি চারতলা আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। এরপর রুশ বাহিনীর হাতে হাজারো ইউক্রেনীয় মারা পড়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন থেকে অন্যান্য দেশে গম ও শস্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে; যা বৈশ্বিক খাদ্যসংকট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত মঙ্গলবার তেহরানে এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেন, ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি নিয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য ‘অগ্রগতি’ হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর পুতিন বলেন, ‘পশ্চিমের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল যেকোনো চুক্তির জন্য কিছুটা ভিত্তি থাকতে হবে। আমরা ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির পথ সহজ করতে সহযোগিতা করব, কিন্তু তার আগে রাশিয়ার শস্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিতে হবে।’

পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য তুরস্ক ক্রেমলিন ও কিয়েভের মধ্যে শস্য রপ্তানির পথ সুগম করতে একটি চুক্তির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল শস্য রপ্তানির চুক্তি নিয়ে রুশ ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের ইস্তাম্বুলে আবার বৈঠকে বসার কথা। এ বৈঠকে তুরস্ক ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিরাও থাকছেন। এ বৈঠক থেকে একটি চুক্তির আশা করা হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বৈদেশিক নীতিবিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল বলেন, এ সপ্তাহের শস্য চুক্তির বিষয়টিকে অনেক মানুষের জীবন-মৃত্যুর বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর জন্য ইউরোপীয় কমিশন খাদ্য ও সারের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত রাশিয়ান ব্যাংকগুলোর সম্পদ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

এদিকে কিয়েভের অভিযোগ, কৃষ্ণসাগর উপকূলে ওডেসা এলাকায় সাতটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া। এতে এক শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ওডেসায় পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্রের গুদাম ধ্বংস করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, রাশিয়া ইউক্রেনের আরও ভূখণ্ড সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ আন্দ্রে ইয়ারমাক বলেছেন, এই শীতের আগেই ইউক্রেনকে এ যুদ্ধে জিততে হবে। মস্কো যদি সেনাদের গুছিয়ে নেওয়ার সময় পায়, তবে তাদের হারানো আরও কঠিন হবে।

Share your love
Default image
Bony